আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ওপর ফের কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোর মতোই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলোও ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিশেষায়িত সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর, আইআরজিসি।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে, সেন্টকম, উদ্দেশ্য করে এই বার্তা দেন।
🔹 যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র’ হামলার পরিকল্পনার খবরের প্রতিক্রিয়ায় জেনারেল মুসাভি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাত হবে দীর্ঘমেয়াদি ও বেদনাদায়ক।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে তার জবাব সীমিত থাকবে না; বরং শত্রুর সামরিক সক্ষমতা ও উপস্থিতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
🔹 মার্কিন রণতরী নিয়ে হুঁশিয়ারি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেনারেল মুসাভি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যে পরিণতি হয়েছে, মার্কিন রণতরীগুলোর জন্যও একই ধরনের পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর ও সুদূরপ্রসারী।
🔹 নতুন সামরিক পরিকল্পনার খবর
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছ থেকে ইরান ইস্যুতে নতুন সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফিং নিতে পারেন।
ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে অথবা যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তির অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে।
🔹 হরমুজ প্রণালি ও ইউরেনিয়াম ইস্যু
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, আলোচ্য মার্কিন পরিকল্পনার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা, হরমুজ প্রণালির একাংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর মতো প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে এসব বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
🔹 নৌ-অবরোধের ইঙ্গিত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে নৌ-অবরোধ বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে সামরিক অভিযানের পথও খোলা রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
🔹 ইরানের অবস্থান
জেনারেল মুসাভি বলেন, শত্রুর অপারেশন যদি সংক্ষিপ্তও হয়, ইরানের পাল্টা জবাব হবে দীর্ঘমেয়াদি, কঠোর এবং শত্রুর জন্য বেদনাদায়ক।
তিনি আরও জানান, ইরান নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
🔹 আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌচলাচল ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও জ্বালানি দামের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি

