স্বাস্থ্য ডেস্ক:
পেট ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় গ্যাস, বদহজম বা অনিয়মিত খাবারের কারণে হালকা পেট ব্যথা হয় এবং কিছু সময় পর ঠিকও হয়ে যায়।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সব পেট ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা মনে করা ঠিক নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরে থাকা গুরুতর রোগেরও সংকেত হতে পারে।
বিশেষ করে যদি ব্যথা বারবার হয়, দীর্ঘসময় থাকে অথবা জ্বর, বমি, ডায়রিয়া কিংবা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
🔹 গ্যাস্ট্রাইটিস
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড বা প্রদাহের কারণে গ্যাস্ট্রাইটিস হয়।
এতে বুক জ্বালাপোড়া, পেট ব্যথা, বমিভাব ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ঝাল খাবার, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন এর কারণ হতে পারে।
🔹 পেপটিক আলসার
পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষত তৈরি হলে তাকে পেপটিক আলসার বলা হয়।
এতে খালি পেটে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা বাড়তে পারে। অনেক সময় রক্তক্ষরণও হতে পারে।
🔹 অ্যাপেন্ডিসাইটিস
পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
সাধারণত ব্যথা নাভির আশপাশ থেকে শুরু হয়ে ডানদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যেতে পারে।
🔹 গলব্লাডারের সমস্যা
পিত্তথলিতে পাথর জমলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হতে পারে।
এ অবস্থায় বমি, জ্বর, হজমে সমস্যা ও ডান পাশের পেটে তীব্র অস্বস্তি দেখা দেয়।
🔹 কোষ্ঠকাঠিন্য
কম পানি পান, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
এতে পেট শক্ত লাগা, ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হয়।
🔹 প্যানক্রিয়াটাইটিস
অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে ওপরের পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর ব্যথা বাড়ে এবং অনেক সময় বমি হয়।
🔹 ফুড পয়জনিং
দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি ও পেট মোচড় দেখা দিতে পারে।
সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হলেও অতিরিক্ত পানিশূন্যতা হলে চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
🔹 ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)
এটি দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের সমস্যা।
এতে কখনো ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও মোচড়ের সমস্যা হয়। মানসিক চাপেও সমস্যা বাড়তে পারে।
🔹 ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স
দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা হলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও ডায়রিয়া হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ল্যাকটোজমুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
🔹 নারীদের বিশেষ কিছু সমস্যা
নারীদের ক্ষেত্রে পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজসহ বিভিন্ন প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থেকেও পেট ব্যথা হতে পারে।
এর সঙ্গে জ্বর, অস্বাভাবিক স্রাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
🔹 কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন
চিকিৎসকদের মতে নিচের উপসর্গ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে—
- তীব্র বা অসহনীয় ব্যথা
- রক্তবমি বা কালো মল
- দীর্ঘদিন ব্যথা থাকা
- জ্বর ও বমি
- হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
- খেতে না পারা
🔹 চিকিৎসকদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
- পর্যাপ্ত পানি পান
- অতিরিক্ত তেল-ঝাল এড়িয়ে চলা
- ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা
- নিয়মিত ঘুম ও ব্যায়াম
পেটের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

