গাজীপুর শ্রীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের ডোমবাড়ি চালা এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে জবরদখলকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হামলায় শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান রিপনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েক জনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও হামলাকারীরা এর আগেই পালিয়ে যায় বলে জানান শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান রিপন, সদর বিট কর্মকর্তা আখতার হোসেন, বনকর্মী বিপ্লব হোসেন, আব্দুর রহিম, শহিদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিনসহ অন্তত ১৫ জন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান রিপন জানান, সকালে খবর পাওয়া যায়, সাতখামাইর বিটের ডোমবাড়ি চালা এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির উপর অবৈধভাবে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু করে। এ সময় অভিযুক্ত স্থানীয় আরমান ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বনকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় তিনি নিজেসহ অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে অতিরিক্ত বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
মোখলেছুর রহমান রিপন বলেন, ডোমবাড়ি চালা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আরমান হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গেলে তিনি ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরেজমিনে গিয়ে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরমানকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশের পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

