মরজেম হোসেন, গাংনী প্রতিনিধি:
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী থেকে বেতবাড়ীয়াগামী সড়কটি ভেঙে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা। সড়কটির কাজীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর গ্রামসংলগ্ন অংশটি বর্তমানে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত এটি মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাথাভাঙ্গা নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সড়কটি গত বছরের ভারী বর্ষণেও একবার ভেঙে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ইট-খোয়া দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হলেও চলতি মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে আগের ক্ষতের পাশ থেকেই মাটি ধসে রাস্তাটি আবার নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। বর্তমানে সড়কটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি ‘মৃত্যুর ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে এই পথ দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল বাজারে বা ঘরে তুলতে তাদের এখন অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে যেমন বাড়ছে সময়, তেমনি বাড়ছে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু ইট-খোয়া দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাথাভাঙ্গা নদীর পানির তোড় ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য এই ভাঙন অংশে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি। কালভার্ট তৈরি করা হলে পানি চলাচলের পথ সুগম হবে এবং রাস্তাটি বারবার ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
সড়কটির দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান মোল্লা বলেন, “বামন্দী থেকে বেতবাড়ীয়া সড়কটির এই বেহাল দশা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি। জনস্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব এই সড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করতে পারব বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি।”
এদিকে জনদুর্ভোগের এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন কালভার্ট নির্মাণসহ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

