নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আগামী তিন দিনে আরও কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
🔹 কোথায় কতটা বিপদপূর্বাভাস অনুযায়ী—সুনামগঞ্জের নালজুর নদী বিপৎসীমার ৪০ সেমি ওপরেনেত্রকোনার বাউলাই নদী ৮ সেমি ওপরেভুগাই-কংস নদী ৬৭ সেমি ওপরেসোমেশ্বরী নদী ৫০ সেমি ওপরেমগরা নদী ৭৯ সেমি ওপরেসুতাং নদী ৮৩ সেমি ওপরে প্রবাহিত হচ্ছেএসব নদীর পানি বাড়তে থাকায় আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
🔹 হাওর অঞ্চলে পরিস্থিতিসিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর এলাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে।বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে।দ্বিতীয় দিনের মধ্যে কুশিয়ারা নদীর কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🔹 নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারেপূর্বাভাসে বলা হয়েছে—সিলেট ও সুনামগঞ্জের নতুন কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারেনেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারেএতে কৃষি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় নতুন করে দুর্ভোগ বাড়তে পারে।
🔹 অন্য নদীর পরিস্থিতিমৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও তৃতীয় দিনে বাড়তে পারে।জুড়ি নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
🔹 বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।গত ২৪ ঘণ্টায়—হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ১২৪ মিমি বৃষ্টিনেত্রকোনা ৭১ মিমিসিলেট ৪৩ মিমিচট্টগ্রাম ৪১ মিমিএই বৃষ্টিপাতের কারণেই নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
🔹 সামনে কী হতে পারেবিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে—বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারেনতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারেহাওর অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে
🔹 সতর্কবার্তাবন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

