ক্রীড়া প্রতিবেদক:
জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে মাত্র ১০ মাস আগে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাগানো ঘাস এখন আবারও তুলে ফেলা হচ্ছে। মাত্র আটটি ম্যাচ আয়োজনের পরই ঘাস তার কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে নতুন করে মাঠ সংস্কার ও ঘাস রোপণের কাজ শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি থাকতে পারে।
🔹 ‘ডাল মে কুচ কালা হে’
রোববার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকা স্টেডিয়ামে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন,
“আমরা এমনভাবে মাঠ তৈরি করতে চাই, যাতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু তার আগেই যদি আবার সংস্কার করতে হয়, তার মানে ডাল মে কুচ কালা হে।”
তার এই মন্তব্যের পর ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
🔹 আবার লাগছে নতুন ঘাস
জানা গেছে, বর্তমানে জাতীয় স্টেডিয়ামে নতুন করে ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি মাঠের আরও কিছু কারিগরি ও অবকাঠামোগত কাজও করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো সংস্কার কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ লাখ টাকা।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে।
🔹 অর্থায়ন করছে বাফুফে ও ফিফা
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সংস্কার কাজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নিজস্ব অর্থায়ন ও ফিফার সহযোগিতায় করছে।
তিনি বলেন,
“যদি এই সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি ভালো মানের ফুটবল গ্রাউন্ড পাই, তাহলে সেটি ইতিবাচক। তবে এমন যেন না হয় যে আবার পরের বছর একই সংস্কার করতে হয়।”
🔹 প্রশ্ন উঠছে কাজের মান নিয়ে
মাত্র ১০ মাসের মধ্যে নতুন ঘাস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাঠ সংস্কার কাজের মান, তদারকি ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রীড়াঙ্গনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের মাঠে ঘাস স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় অল্প সময়েই মাঠের মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

