শিক্ষা ও চাকুরী আইন আদালত খুলনা

খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর তার স্ত্রীর পাঠানো এক লিখিত অভিযোগপত্রে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।


🔹 অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে

অভিযোগকারী মাহবুবা নাসরীন কেয়া দাবি করেন, ২০১৪ সাল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভাগীয় প্রভাব ব্যবহার করে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।


🔹 ২০১৫ সালের ঘটনা

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন বলেও উল্লেখ করা হয়।


🔹 নতুন অভিযোগ

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্কের বিষয়টি তার নজরে আসে।

এছাড়া নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীনও অনুরূপ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো প্রকাশিত হয়নি।


🔹 তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

অভিযোগকারী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।


🔹 বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন,

“অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আদালতেও রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া ভালো বলে তিনি মনে করেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন,
“কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”


🔹 এখন যা প্রশ্ন

ঘটনাটি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এখনো—

  • তদন্ত শেষ হয়নি
  • আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়নি

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *