লাইফস্টাইল ডেস্ক:
মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনো কিছুর তুলনা হয় না। সন্তানের জন্য একজন মা নিজের সুখ, স্বপ্ন এমনকি জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করতে পারেন। তাই মায়েদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় মা দিবস।
প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়। তবে অনেকেই জানেন না—কেন এই দিনটি রবিবারে পালিত হয় এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল এর যাত্রা।
🔹 মা দিবসের শুরু যেভাবে
আধুনিক মা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে।
এই ভাবনার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন আনা জারভিস নামের এক নারী। ১৯০৭ সালে নিজের মাকে স্মরণ করে তিনি প্রথম ছোট পরিসরে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।
তার মা আনা রিভস জারভিস নারীদের স্বাস্থ্য ও শিশুদের কল্যাণ নিয়ে কাজ করতেন। শিশু মৃত্যুহার কমাতে তিনি “মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব” গঠন করেছিলেন।
🔹 কেন রবিবার বেছে নেওয়া হয়
আনা জারভিসের মা মারা যান ১৯০৫ সালের ৯ মে।
মায়ের স্মরণসভা আয়োজনের জন্য তিনি ১২ মে রবিবার দিনটি বেছে নেন, কারণ সেটি ছিল তার মায়ের মৃত্যুর কাছাকাছি একটি রবিবার।
পরে এই দিনটিই ধীরে ধীরে মা দিবস হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
🔹 সরকারি স্বীকৃতি
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।
পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে “মাদার্স ডে” হিসেবে ঘোষণা করেন।
এরপর থেকেই বিশ্বের অনেক দেশে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
🔹 একেক দেশে একেক আয়োজন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস ভিন্ন ভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়।
📌 জাপান:
মায়েদের ফুল, উপহার ও শুভেচ্ছা কার্ড দেওয়া হয়।
📌 নেপাল:
“মাতা তীর্থ আউন্সি” নামে বিশেষ উৎসব পালিত হয়।
📌 ইথিওপিয়া:
বর্ষা শেষে কয়েকদিনব্যাপী পারিবারিক উৎসবের মাধ্যমে মা দিবস উদযাপন করা হয়।
🔹 বাংলাদেশে যেভাবে পালিত হয়
বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মা দিবস ঘিরে বাড়ছে আয়োজন।
এই দিনে অনেকে—
- মাকে উপহার দেন
- শুভেচ্ছা জানান
- সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন
- পরিবার নিয়ে সময় কাটান
🔹 মায়ের জন্য আলাদা দিনের প্রয়োজন হয়?
অনেকের মতে, মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন নেই।
তবু মা দিবস মানুষকে অন্তত একদিন মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা মনে করিয়ে দেয়।
🔹 সবচেয়ে বড় উপহার
বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো—
- সময় দেওয়া
- সম্মান করা
- খোঁজ রাখা
- পাশে থাকা
কারণ মায়েরা সন্তানের ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দেন।

