নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী:
স্ত্রীকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুরাদ হোসেন (৩৬)। স্বপ্ন ছিল কুরবানির ঈদে দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ছেলেকে কোলে তুলে নেবেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১৭ দিন পর শনিবার (৯ মে) ভোরে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। আর জন্মের পর প্রথমবার বাবাকে দেখল তার ১০ মাস বয়সী ছেলে—তাও কফিনবন্দি অবস্থায়।
🔹 যে স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেল
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৪ মাস আগে সৌদি আরব যান মুরাদ।
দেশ ছাড়ার সময় তার স্ত্রী আন্জুয়ারা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
চার মাস পর জন্ম নেয় ছেলে রাফি। কিন্তু প্রবাসে থাকার কারণে সন্তানের মুখ আর দেখা হয়নি বাবার।
🔹 ঈদে ফেরার পরিকল্পনা ছিল
মুরাদের মামাশ্বশুর মো. লুৎফর রহমান বলেন,
“ওর ইচ্ছা ছিল এবার কুরবানির ঈদে দেশে ফিরবে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সুন্দর সময় কাটাবে।”
তিনি জানান, বিমানবন্দরে ছেলেকে কোন রঙের পাঞ্জাবি পরিয়ে নিতে যাবে—সেটাও ঠিক করে রেখেছিলেন মুরাদের স্ত্রী।
🔹 সৌদিতে দুর্ঘটনা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মুরাদ।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৭ দিন পর তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
🔹 অর্থনৈতিক সংকটে পরিবার
স্বজনদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় মুরাদের কাছে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল, যা দিয়ে আকামা নবায়ন করার কথা ছিল।
তবে সেই টাকার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এছাড়া বিদেশ যাওয়ার জন্য আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া ঋণও এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
🔹 এলাকায় শোকের ছায়া
শনিবার সকালে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।
পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
🔹 রেখে গেলেন স্ত্রী-সন্তান
মুরাদের বড় ভাই মোস্তফা শেখ জানান, পরিবারে রেখে গেছেন—
- স্ত্রী আন্জুয়ারা
- দুই কন্যা সন্তান
- ১০ মাস বয়সী ছেলে রাফি
তিনি সবার কাছে পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেন।

