শিক্ষা ও চাকুরী পটুয়াখালী রাজনীতি

পবিপ্রবিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলনে সুবিধাভোগী আওয়ামী ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সরব অবস্থান

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে অবস্থান কর্মসূচি ও একাডেমিক শাটডাউন চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের শিক্ষক হিসেবে ভিসি পদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে শুরু থেকেই একটি বিভাজন তৈরি হয়। এই বিভাজনের একপক্ষে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং অপরপক্ষে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক এস. এম. হেমায়েত জাহান।

নির্বাচন-পূর্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং ভিসির একাধিক বক্তব্য থেকে জানা যায়, বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা নিজেদের পদোন্নতি, শিক্ষক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগে ভিসির ওপর একচেটিয়া চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তবে সেগুলো নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় ভিসি তা বাস্তবায়ন না করায় তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার মধ্যে গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভিসিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় দুমকি উপজেলা যুবদল নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে একদল বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মী ৪/৫ জন শিক্ষক কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার কর্মসূচি রূপ নেয় ভিসিবিরোধী অবস্থান কর্মসূচিতে। উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সাথে যুক্ত হয়ে নিয়মিত কর্মসূচি পালনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে একাডেমিক শাটডাউন চালিয়ে যান আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।

এই অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্বে দেখা যায় প্রফেসর মোহাম্মদ আতিকুর রহমানকে। তিনি ইতোপূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি ও শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি প্রফেসর ড.মো: আসাদুজ্জামান মুন্নার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া আওয়ামী সমর্থনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।

এছাড়াও কর্মসূচির মিডিয়া কভারেজে পরিচিত মুখ প্রফেসর আবুল বাশার খান তিনি ছিলেন সাবেক জামায়াতী ভিসি লতিফ মাসুমের পালক পুত্র ও আওয়ামী লীগ আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের মধ্যে পরিচিত একজনের অন্য তম।

অবস্থান কর্মসূচির অন্যতম ব্যক্তি কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, অধ্যাপক খোকন, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, বর্তমানে বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়াও আন্দোলনে অংশ নেওয়া আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর এস. এম. তাওহিদুল ইসলাম-যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন।প্রফেসর ড. শাহাবুবুল আলম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক; প্রফেসর ড. কাজী শারমিন আক্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক; এবং প্রফেসর ড. নুরুল আমিন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সর্বশেষ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।

আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এসব শিক্ষকের বিএনপিপন্থী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়া এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাদের প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারী জানান, “ভিসি বিরোধী আওয়ামী-জামায়াতীদের অবস্থান কর্মসূচি তে অংশগ্রহণ করে মূলতঃ মব সৃষ্টি করে ভিসি তাড়ানোর নীলনক্সা ছাড়া অন্য কিছু নয়।” ব্যাপারে শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন.ম এহসানুল হক মিলন জানান

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *