অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অপরাধ ‍ও দুর্নীতি এক্সক্লুসিভ লিড নিউজ শিক্ষা ও চাকুরী সারাদেশ

প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ, মকিমপুর আব্দুল মতিন খসরু উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক | 

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ১ নং মাধবপুর ইউনিয়নের মকিমপুর আব্দুল মতিন খসরু উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন সরকার প্রায়ই নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। একইভাবে কয়েকজন সহকারী শিক্ষকও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ আগস্ট ২০২৬, সোমবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন সরকারকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি এক মিনিট পর, অর্থাৎ সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। এরপর আরও কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন। তাদের মধ্যে কেউ প্রায় ১৫ মিনিট, আবার কেউ প্রায় ৩৫ মিনিট বিলম্বে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন বলে জানা যায়।নিমায়ন কবির নামে এক সহঃ শিহ্মক ৩৫মিঃবিলম্বে অফিস কহ্মে প্রবেশ করেন,বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া আছে প্রতিদিন আমার আধাঘন্টা ও একঘন্টা বিলম্ব হবে,নিমায়ন কবির  মকিম পুর গ্রামের ছেলে বলে দাপট দেখানোর অভিযোগ রয়েছে,অনিয়ম করলে উনাকে কেউ কিছু বলার সাহসনেয়,তাই তিনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই উনার খুশি মত স্কুলে আসা যাওয়া করেন।

নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক তৌফিক আহমেদ খান শারীরিক অসুস্থতার কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানান। তবে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগে অনিয়মিত উপস্থিতির তালিকায় সহকারী শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন খান, ধর্মীয় শিক্ষক আনিসুর রহমান, ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিমায়ন কবির, সহকারী ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক রুহুল   আমিন, কৃষি বিষয়ের শিক্ষক তৌহিদুর রহমান, হিন্দু ধর্ম বিষয়ের সহকারী শিক্ষক তপন কুমার চন্দ্র,  সহকারী শিক্ষক নাহিদ হাসানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন সরকারের কাছে বিলম্বে বিদ্যালয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাননি। তবে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম দেখা যায়। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে ২৪ জন ছাত্রী থাকার কথা থাকলেও ওই দিন উপস্থিত ছিল মাত্র একজন।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন সরকার বলেন, বিদ্যালয়টি কুমিল্লা জেলার একেবারে শেষ প্রান্তে এবং এর পার্শ্ববর্তী উপজেলা কসবা। তাঁর দাবি, কসবা উপজেলায় মাদকের প্রভাব থাকায় উঠতি বয়সের অনেক শিক্ষার্থী মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির এটিকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী আন্দোলনমুখী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, এটিও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতির একটি কারণ।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল করিমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদান কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *