জাতীয় লিড নিউজ সারাদেশ

কোনো টালবাহানা ছাড়াই ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলতে হবে: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, কোনো প্রকার টালবাহানা ছাড়া ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ খুলে দিতে হবে।

রোববার (৫ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ নিয়ে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি লেখেন, ‘কোনো প্রকার টালবাহানা ছাড়া ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ খুলে দিতে হবে।’

সারজিস আরও লেখেন, ‘বিএনপির কথার সাথে কাজের মিল দেখতে চাই।’

এর আগে, গত বুধবার রাজধানীর রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণ নিজেরাই সেখানে প্রবেশ করবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

আর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর দাবি জানিয়েছে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ও শহীদ পরিবার।

শুধু নামে চালু না করে জাদুঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর করা এবং কোনো ষড়যন্ত্র যাতে এটি স্থবির করতে না পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আহ্বান করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সৈকতের বোন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট এই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারি, গত সপ্তাহের শেষে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা একটি সভায় জানিয়েছেন যে তিনি জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের প্রশ্ন, জনতার ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতভাবে জুলাই জাদুঘর আইন পাস করেছে, তাহলে এক আমলা হয়ে সেই আইনে পরিবর্তন আনার অনুমোদন তিনি কোথায় পেলেন?

সংগঠনটি এই পরিবর্তন আনার পরামর্শকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে এর পেছনে দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করে। তাদের ভাষ্য, জাদুঘরের চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কমপক্ষে আরও দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য লোকদের সংবেদনশীল প্রজেক্টে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাদুঘরটি চালাতে হলে যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক লাগবে। যারা জাদুঘর গড়ে তোলার পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং রূপরেখা ও নকশা তৈরিতে কাজ করেছেন, তাদেরকেই সম্পৃক্ত রাখতে হবে। জাতীয় সংসদে বর্তমানে যে আইন পাস করা হয়েছে, সেই আইন মোতাবেকই যোগ্যতার ভিত্তিতে এই বিশেষায়িত নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

সংগঠনটির অভিযোগ, ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু জাদুঘর উদ্বোধনেই বিলম্ব করাচ্ছে না, বরং এটিকে প্রশাসনিক বা কাঠামোগতভাবে পুরোপুরি অকার্যকর করতে চাইছে। এ ছাড়া জাদুঘরকে প্রশাসনিক অসহযোগিতা করা, বাজেট ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ আটকে রেখে একে অচল করে দেওয়া, মানুষ যাতে সঠিক ইতিহাস না জানতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, সেই পরিকল্পনা চলছে।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত খোলা হয়নি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *