নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেটি মূলত নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একটি প্রয়োজনীয় বাস্তবতা পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুমোদিত এই অধ্যাদেশটি ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ থেকে শুরু করে খুচরা দোকানে পণ্য প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত অত্যন্ত কঠোর ও জটিল ছিল। সংসদীয় বিশেষ কমিটির বর্তমান পর্যালোচনা মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রয়োগযোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য আনার একটি উদ্যোগ।
বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব: বিশ্লেষকদের মতে, একটি নিয়ম তখনই টেকসই হয় যখন তা বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব। বাংলাদেশের তামাক বাজারের কাঠামো অত্যন্ত বহুমুখী, যেখানে লাখ লাখ খুচরা দোকান এবং দুর্বল প্রয়োগব্যবস্থা বিদ্যমান। এই বাস্তবতায় প্রদর্শন নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর ব্যবস্থা বৈধ বাজারকে চাপের মুখে ফেলতে পারে এবং অবৈধ সিগারেটের নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার ঝুঁকি তৈরি করে।
অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব: নীতিনির্ধারণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল এর প্রক্রিয়া নিয়ে। উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কৃষক, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক এবং শিল্পগোষ্ঠীর মতো অংশীজনদের সাথে পরামর্শ করার কথা থাকলেও তা আগে করা হয়নি। গণতান্ত্রিক নীতিনির্ধারণে এই ঘাটতি সংশোধনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান সংসদীয় পুনর্বিবেচনা।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই পদক্ষেপ একটি প্রমাণনির্ভর এবং প্রয়োগযোগ্য নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন। কারণ কার্যকর নিয়ন্ত্রণ শুধু নিষেধাজ্ঞার ওপর নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়।

