নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার পশুর হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ট্রাকে ট্রাকে দেশি গরু নিয়ে ঢাকার হাটে আসছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে এলে আরও বিপুল সংখ্যক পশু রাজধানীতে প্রবেশ করবে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবার বাজারে পশুর সংকট হবে না এবং দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
🔹 ঢাকায় বসছে ২৭টি পশুর হাট
রাজধানীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় থাকবে ১১টি হাট
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় বসবে ১৬টি হাট
ইতোমধ্যে ১৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
🔹 নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রতিটি হাটে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে থাকবে মেডিকেল টিম এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকবে পুলিশের বিশেষ টহল।
অন্যদিকে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো হাটে বেচাকেনা করা যাবে না। এছাড়া ইজারাদাররা পশু বিক্রির অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হাসিল নিতে পারবেন।
🔹 সর্বোচ্চ দর উঠেছে দিয়াবাড়ি হাটে
ঢাকা উত্তরের সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার পশুর হাটে। এ হাটের ইজারা মূল্য ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প পর্যন্ত এলাকার হাটে।
🔹 স্থায়ী হাটেও চলবে বেচাকেনা
অস্থায়ী হাট ছাড়াও রাজধানীতে গাবতলী ও সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হবে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে বেচাকেনা চলবে।
🔹 দেশি খামারিদের স্বস্তি
খামারিরা বলছেন, কয়েক বছর আগেও ভারতীয় পশুর কারণে দেশীয় গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে বর্তমানে দেশীয় খামারিরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা স্থানীয় পশুপালন শিল্পের জন্য ইতিবাচক দিক।

