নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুক্তিযোদ্ধা ও অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেছেন, দেশে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে।সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
🔹 মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দ্বিধানাজমা শাহীন বলেন,
“কখনো ভাবিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গর্ব না করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে দ্বিধাবোধ করব।”তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামীও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তারা একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাকে হতাশ করছে।
🔹 অপমানের অভিযোগতিনি বলেন,
বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হচ্ছে এবং তাদের নিয়ে ভিন্ন ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে।“আমার স্বামীর সৌভাগ্য যে তিনি এসব অপমান দেখে যেতে হয়নি,”—যোগ করেন তিনি।
🔹 অতীতের স্মৃতি ও সংগ্রামনিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাজমা শাহীন জানান,
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।তিনি বলেন,“‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’—এই স্লোগানের লিফলেট বিতরণ করার সময় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আমাকে গ্রেপ্তার করে।”তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন এবং জেলগেট থেকেই তার ম্যাট্রিক ও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তি পান।
🔹 নারীদের অবদান প্রসঙ্গেমুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কারণে নারীদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।”তার মতে, অনেক নারী সরাসরি যুদ্ধ করেছেন এবং সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কিন্তু ইতিহাসে তাদের অবদান যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।তিনি স্বীকার করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরতে না পারার দায় আংশিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদেরও।
🔹 মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বাস্তবতাতিনি আরও বলেন,
“আমরা স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। আগরতলায় প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে যুদ্ধ করেছি।”
🔹 উদ্বেগ ও প্রশ্নবর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“কোনো এক সময় হয়তো মুক্তিযুদ্ধ বা বঙ্গবন্ধু শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না—এমন পরিস্থিতি কি আমরা কল্পনা করেছি?”তার এই বক্তব্য নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সম্মান ও মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

