অপরাধ ‍ও দুর্নীতি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ লিড নিউজ সারাদেশ

অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি নজরদারি দাবি

ক্রাইম রিপোর্টার মো কবির হোসেন
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক ও বর্তমান কিছু কর্মচাএসেনসিয়াল ড্রাগসেরী এবং সুবিধাবাদী একটি চক্র একত্রিত হয়ে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে , বগুড়ার ‘ট্রলি সেলিম’, সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা হারুনসহ কয়েকজন বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, সম্প্রতি একটি গোপন বৈঠকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে—এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অডিওতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কৌশলে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে ‘ট্রলি সেলিম’ নামে পরিচিত সাবেক এক শ্রমিক নেতার ভূমিকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি ২০১২ সালে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ঢাকা কারখানায় উৎপাদন শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচনে জয়লাভের পর তার প্রভাব ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় অবৈধ নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর মগবাজার ও মধুবাগ এলাকায় আবাসিক সম্পদ, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় জমিসহ স্থাপনা, বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমি এবং বগুড়া শহরে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যৌথভাবে জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
এছাড়া রাজধানীর মগবাজার-মধুবাগ এলাকায় ‘সিনহা রেন্ট এ কার’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। খিলক্ষেত ও ৩০০ ফিট এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের চাকরিচ্যুত হন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ওই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে একটি গ্রুপ এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে। মধুবাগ এলাকায় অবস্থিত ‘সিনহা রেন্ট এ কার’-এর কার্যালয়ে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব বৈঠকে হারুন মিজি, বর্তমান সিবিএ সভাপতি নছের, সহ আরও কয়েকজনের যাতায়াত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনের জরুরি নজরদারি ও হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক উৎপাদন ও কার্যক্রম ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *