এমডি রবিউল ইসলাম, ক্রাইম রিপোর্টার——————————————————-
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন নাগদারপাড় ব্রিজ সংলগ্ন ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মেসার্স মেঘালয় এন্টারপ্রাইজ’ এবং পশ্চিম নন্দীপাড়া ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্স’ নামের দুই টিসিবি ডিলারকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারের ভর্তুকিমূল্যে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যথাযথভাবে বিতরণ না করে একটি অংশ অনিয়মিতভাবে সরিয়ে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে একটি অটোরিকশার মাধ্যমে অন্য একটি ডিলার পয়েন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টিসিবি পণ্য বস্তা ও কার্টনে করে এনে গোপনে সংরক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য পরবর্তীতে অননুমোদিতভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল—এমন দাবিও করেছেন স্থানীয়রা। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্স’-এর দোকানে প্রদর্শিত ব্যানারে প্রয়োজনীয় তথ্য, যেমন মোবাইল নম্বর বা লাইসেন্স নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, যা একটি অনুমোদিত টিসিবি ডিলারের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানিক মিয়া নামের এক ব্যক্তি কখনো নিজেকে কর্মচারী, আবার কখনো ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি গণমাধ্যমকে একাধিকবার বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন, যা পুরো বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তবে এ বিষয়ে ‘মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্স’-এর ডিলারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মেসার্স মেঘালয় এন্টারপ্রাইজ’-এর টিসিবি ডিলার মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী তিনি বলেন—
“আপনি ভালো হয়ে যান। আপনি কিন্তু আমার হাতের মুঠোয় রয়েছেন। আপনি কোথায় ভাড়া থাকেন সেটাও জানি। ধরে আনতে আমার সময় লাগবে না।”
অভিযোগ আরও রয়েছে, কথোপকথনের সময় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সত্য সংবাদ প্রকাশে বিভিন্নভাবে চাপ, ভয়ভীতি ও হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যার বহিঃপ্রকাশ সাম্প্রতিক এই হুমকির ঘটনাতেও দেখা গেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন এবং সত্য ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতন, ভূমিদস্যুতা ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হচ্ছে। সেই নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,
“এই দুই টিসিবি ডিলার অসাধু পন্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে তাদের সম্পদের উৎস যাচাই এবং অবৈধ সম্পদ থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় টিসিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আঞ্চলিক প্রধান বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“আমরা অনেক কিছু দেখি, কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারি না। প্রশাসন যদি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমরা স্বস্তি পাবো।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় টিসিবি কার্যক্রমে নানা অনিয়ম চলছে। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী সঠিকভাবে বিতরণ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তারা মনে করেন।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—উল্লিখিত দুই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কিনা। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং টিসিবি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধান চলমান।
ইতোমধ্যে প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তৃতীয় পর্বে উঠে আসতে পারে আরও বিস্ফোরক তথ্য।
চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

