নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানঘরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাত্র তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শতাধিক দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
🔹 কোথায় গড়ে উঠেছে দোকান
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের রেলক্রসিং-সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ফাঁকা জায়গা দখল করে অসংখ্য দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দোকানের—
- রেলওয়ের কোনো অনুমোদন নেই
- লিজ নেই
- বৈধ কাগজপত্রও নেই
তবুও সেখানে নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছে।
🔹 বিদ্যুৎ আইনের শর্ত উপেক্ষার অভিযোগ
বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ অনুযায়ী সংযোগ নিতে হলে—
- বৈধ ঠিকানা
- গ্রাহকের পরিচয়
- স্থানের বৈধ দখল
থাকা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব শর্ত না মেনেই অবৈধ দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
🔹 তিন মিটার থেকে শতাধিক সংযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র তিনটি মিটার থেকে অসংখ্য দোকানে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিটারগুলোও কোনো বৈধ স্থাপনায় স্থাপন করা হয়নি; বরং দোকানের পেছনের দেয়ালে বসানো হয়েছে।
🔹 অর্থ আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি দোকান থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলাদা অর্থ আদায় করা হয়।
তাদের দাবি, প্রতি বাতির জন্য নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো কার্যক্রম স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সমিতির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
🔹 আগেও হয়েছিল অভিযান
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল।
তবে পরে প্রভাবশালী মহল ও অসাধু কর্মচারীদের সহযোগিতায় আবার সংযোগ চালু করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
🔹 নেসকোর বক্তব্য
সান্তাহার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল আলী বলেন,
“একটি মিটার থেকে অন্য স্থাপনায় সংযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
🔹 রেলওয়ের বক্তব্য
সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন,
“রেললাইনের আশপাশের ফাঁকা জায়গায় যেকোনো স্থাপনা আইনগতভাবে অবৈধ।”
তিনি আরও জানান, আগেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল, তবে কিছুদিন পর আবার দোকান গড়ে ওঠে।
🔹 স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়রা অবৈধ দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

