আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন মোড় নিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিতে দেশটিতে মোতায়েন হতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে দুর্ধর্ষ চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
ধর্মীয় যুদ্ধের ডাক:
প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনীগুলো এই সম্ভাব্য সংঘাতকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা ইরানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো সরাসরি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ‘জিহাদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। চেচেন যোদ্ধাদের মতে, এটি মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর লড়াই।
প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের পরিকল্পনা:
ইরানের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহের বিমান অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী এখন স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন অসমর্থিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে ইতিমধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে।
পাল্টা হামলা ও বৈশ্বিক প্রভাব:
প্রেস টিভির তথ্যমতে, ইরান ইতিমধ্যে ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির ওপর ৮৬ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে তাদের প্রকাশ্য সমর্থন বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চেচেন বাহিনীর এই সম্পৃক্ততা রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই যুদ্ধ মস্কো ও কিয়েভের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

