৯৯৯-এ ফোনের প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ, ঘটনাস্থলে ভাঙচুরের আলামত পাওয়ার দাবি
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ২ নং ধরখার ইউনিয়নের তন্তর গ্রামে রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও জোরপূর্বক বসত বাড়ি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জুরুর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত তিন বছরে অন্তত সাতবার তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালে তাদের ছোট ছেলে রহমতুল্লাহকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় তন্তর বাসস্ট্যান্ডে ফেলে রাখা হয়। একই সময় তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় করা জিআর মামলা নম্বর ৯৩/২৩ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তারা।
পরিবারটির দাবি, ২০২৪ সালে পুনরায় তাদের বাড়িতে হামলা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের দ্বিতীয় ছেলে দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং বাড়ির নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে সিআর মামলা নম্বর ৩১১ ও ৪৮৩ বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সেনাবাহিনী, ডিএসবি, এনএসআই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা কাঙ্ক্ষিত বিচার ও নিরাপত্তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে জহিরুল হক জুরু সহসহ তার নেতৃত্বে লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাথরুম, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুট করেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলার সময় সকাল ১০টা ৮ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। তবে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার দিন সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারকেও জানানো হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরে দুপুরে জরুরি সেবায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশের এসআই রিপন দাস ভাঙচুরের আলামত ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের কথা জানান। তার বরাত দিয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, ঘটনাস্থলে একটি বাথরুম এবং ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী তন্তর গ্রামের মৃত্যু শামসুল হক ভুইয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমি বাড়িতে একাই থাকি। আমার পাঁচ ছেলে দেশের বাইরে থাকেন এবং তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। কয়েকদিন পরপরই লোকজন নিয়ে এসে আমার বাড়িতে হামলা করে। আমার বাড়ির লোকজনকে মারদর করে আমার বসত বিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপের মুখে রয়েছি। থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেও মামলা নেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও বাড়ির নারী সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। নিজের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পরিবারটির দাবি, তাদের পাঁচ ছেলে বিদেশে কর্মরত থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালেও তাদের মা ও পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অভিযুক্ত জহিরুল হক জুরুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এসব মামলার নম্বর, ধারাসমূহ ও বর্তমান বিচারিক অবস্থার বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল হক জুরুর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধের প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কেন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নিয়েছে—এ বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দৃদৃষ্টি আকর্ষণ করেন রেমিটেন্স যোদ্ধার মা জাহানারা বেগম।

