বিশেষ প্রতিনিধি:
মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বিটিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোঃ বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ লাভের অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তার ইনডেক্স নম্বর- ৮১০০৬৯৪২। অভিযোগ রয়েছে যে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তিনি শুধুমাত্র তৎকালীন কমিটির কাছ থেকে একটি সাময়িক নিয়োগ গ্রহণ করেছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী যেভাবে বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা, তিনি তা অনুসরণ করেননি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাময়িক নিয়োগের পর সরকারি বিধি মোতাবেক পুনরায় একটি ‘ফ্রেশ’ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।
আরও গুরুতর অভিযোগ এই যে, নিয়োগের বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণের সময় সিএস কপিতে (Comparative Statement) ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উক্ত কপিতে স্বাক্ষর না করলেও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত দেখানো হয়েছে।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এনামুল হক মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ বজলুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রধান শিক্ষক মোঃ এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, “মোঃ বজলুর রহমান একজন সহকারী শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি চান প্রতিষ্ঠানটি যেন তার খেয়ালখুশি মতো চলে। আমি বা প্রতিষ্ঠান তার কথামতো না চললে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার ও নানাবিধ হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “৩-৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুইটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, যার মধ্যে মোঃ বজলুর রহমানের নামও রয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনে নিয়োগ বিধি বহির্ভূত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেবো। কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, “আমি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখে আমি সত্যিই হতাশ।

