ফরহাদ হোসেন
২৪ জুন বুধবার দুপুরে ঢাকা সিএন্ডএফ ভবনের সামনে ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের আয়োজিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত এসআরও নং ১৯৭-আইন/২০২৬-এর সকল কালো আইন বাতিলের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান তার বক্তব্য বলেন, গত সরকারের সময় ২০৭ এসআরও উদ্যোগ হয়েছিল তার এই ডিজিটাল ভার্সন হিসেবে ১৯৭ এই এসআরও হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আপনারা বেশ কিছুদিন যাবত আন্দোলন করছেন ১৯৭ এগেনস্টে আমরা এনবিআর এবং মন্ত্রণালয়ের অনেক জায়গায় এই বিষয়ে মিটিং এ ছিলাম প্রথম থেকে আছি এবং এটা বাস্তবতা নিয়ে আমরা কথা বলেছি।
আমাদের এখানে সর্ব সার্কুলে ৩০০ থেকে ৪০০ টন কার্গো প্রতিদিন এখানে আসে। এই ৩০০ থেকে ৪০০ টন কার্গো যদিও এখানে কমে গেছে, এয়ারপোর্ট ব্যবহার করার বিষয়ে আমদানিকারকরা নিরুৎ সাহিত্য হওয়ার কারণে এখন ৩০০ টনের বেশি কার্গো আসে না। ইতিমধ্যে ১০০ ট্যান কার্গো কমে গেছে তাই এটা একটা ভালো সংকেত নয় খারাপ সংকেত । এখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টন কার্গো হ্যান্ডেল হয় তার মধ্যে ৪৫টি ফ্লাইট প্রতিদিন আসে, তার মধ্যে ৪০টি ফ্লাইট রেগুলার ফ্লাইট। রেগুলার ফ্লাইটে গড়ে ১০০ টন কার্গো আসে, বাংলাদেশ বিমান এই ১০০ টন কার্গো নোটিশ ও এরাইভাল দিতে ২৪ ঘন্টা সময় নেয়। আর ডেলি ৩ থেকে ৪ টা চাটারফ্লাইট আসে চাটারফ্লাইটে প্রায় ৩০০ টন গড়ে কার্গো আসে সেটা নোটিফিকেশনও এরাইভাল দিতে তাকে তিন থেকে চার দিন সময় নেয়। অটোমেটিকলি দেড় হাজার টনের উপরে কার্গো বাই লাভ হয় শুধু বিমানের হ্যান্ডেলিং এর দুর্বলতার কারণে।
আমাদের এখানে যে পণ্য আসে দুইটা গোডাউন যথেষ্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট হ্যান্ডেল করার জন্য তাহলে আমাদের আরো এডিশনাল দুইটা গোডাউন আছে আমাদের যদি এডিশনাল গোডাউন থাকে ওই এডিশনাল গোডাউন যদি একটা কুরিয়ারের জন্য রেডি করি আর একটা বিশেষায়িত অন্য ধরনের কার্গো জন্য রেডি করি তাহলে আমার মনে হয় না ৪০০ টন কার্গো ৮০০ টন কার্গো যদি আসে কোনদিন বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ডাবল ও
হয় তারপরও এখান থেকে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
বর্তমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব সাথে যে পরিমাণ আমাদের কথা হয়েছে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল দশটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী সভাপতিত্বে একটা সভা আছে সেখানে বিমানমন্ত্রী, বিমান প্রতিমন্ত্রী, সচিব, UE এর কনসার্ট অথরেজরা থাকবেন। এখানে যে বিষয়টা কথা হচ্ছে কুরিয়ারের বিষয় গুলি এসআরও কারা করে এটার পিছনে আসলে অন্য IMF, UE ওদের কিছু কনসার্ট আছে ওদের দেশে যে স্টাইলে কাজগুলি চলে আমাদের দেশে এটা চলে না, কিন্তু ওরা চায় ওদের একটা ডিজাইন কাটপিস করে এখানে বসাইতে চায়।কাটপিস বসলে তো আসলে কাজ করবে না ফাংশনে কাজ করবে না ফাংশন করতে হলে টোটাল সিস্টেমটাকে ঠিক করে নিতে হবে। এই টোটাল সিস্টেমটাকে ঠিক করার ব্যাপারে আমরা বারবার বলেছি কালকে ও বলবো। শুধু বিমানে যে কার্গো নামার পরে ৩ থেকে ৪ দিন যে সময় লাগে এই যে গ্যাপটা হচ্ছে এই সমস্যাটা, সমাধান করলেই আমাদের বাকি সমস্যার ৯০% অটোমেটিক ঠিক হয়ে যাবে। এরপরও যদি কোন কারণে এখান থেকে কার্গো মুভ করতে হয় সেখানেও বিমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বলেছেন একটা আশুলিয়া একটা গাজীপুর একটা ৩০০ ফিট হবে না, যেখানে যেতে হলে এক জায়গায় যেতে হবে যাতে আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে পারি।
যত কুচুক্রী মহলেই যে যত নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য এসআরও তৈরি করুক না কেন আমরা কিন্তু এখানে সচেতন নাগরিক আছি আমরা এটাকে পাহারা দেই আমরা এটাকে পাহারা দিব সুতরাং এখানে কেউ কুচুক্রী করে দেশের ক্ষতি করে আমাদের সবার ক্ষতি করে তার একক বেনিফিট করার তার কোন সুযোগ আমরা কোন দিনই হতে দিব না। আশা করি সরকার সুন্দর একটা সিদ্ধান্তে যাবে কারণ সরকার এই বিষয়গুলি প্রশাসনিক ভাবে এড্রেস করে কাজ করতেছে।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর সভাপতি
মোঃ আবু হানিফ বলেন, ১৯৭ যদি বাস্তবায়ন করতে পারে এই ১৯৭, ২০৭ একই কথা একই সূত্রে গাঁথা আপনারা দেখেছেন ২০৭ যখন এখানে কন্টিনিউ চালু হয়ে গিয়েছিল সম্ভবত এক সপ্তাহ ১৫ দিনের মত চালু ছিল। তখন আমাদেরকে লাগে নাই ওনাদের এআই নাম্বার দেওয়া আছে ওটাতে তারা পেপার এন্ট্রি করে সুন্দর করে মাল ডেলিভারি হয়ে গেছে।
এখন এই ১৯৭ বাস্তবায়ন করতে পারলে কি করবে ঘরও তার খাটও তার বিছনাও রান্নাঘর তার সবকিছুই তার আমাদের কোন প্রয়োজন আছে, আমাদের প্রয়োজন করার জন্য আমাদের এখানে অধিকার আদায়ের জন্য সব সময় আমরা প্রস্তুত আছি। আমার এখানে মালিক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ আছেন আপনারা আমাদের এখানে একটু পরিষ্কার করে বলে যাবেন এই সমস্ত এসআরও এখানে যখন হয় আপনাদের নলেজে আছে কিনা আপনারা জানেন কিনা আর যদি জানেন সেটা আপনারা ব্যাখ্যা করবেন। না জানলে তাও ব্যাখ্যা করবেন। আর যদি না জানেন ভবিষ্যতে জানার জন্য ব্যবস্থা আমরা করব। এই কাস্টম এজেন্ট এসোসিয়েশন একটা পুতুল না সারা বাংলাদেশের একটা আমদানি রপ্তানি ক্লিয়ারিং একটা দায়িত্বে তারা থাকে। এই এসআরও গুলো যখন হয় তখন আমরা কেন জানিনা। হওয়ার পরে আমাদের কেন এক মাস দেড় মাস পরে মাঠে নামতে হয়। কালকে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ যাবে এই মিটিং কি হয় এই মিটিং এর আলোকে রবিবার আপনাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হবে।
উক্ত সমাবেশে ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা আরো বলেন, সিএন্ডএফ মালিক ও সাধারণ কাস্টমস কর্মচারীদের স্বার্থবিরোধী, অন্যায় এবং বৈষম্যমূলক ‘এসআরও নং ১৯৭’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কর্মচারীদের অধিকার হরণকারী এই কালো আইন অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি। আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই লড়াই চলবে।

