নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দাফনের ১৬ মাস পর এক ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে অন্যত্র পুনরায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
🔹 যেভাবে ঘটল ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মগধরা ইউনিয়নের প্যালেশ্যার বাজারসংলগ্ন ফতেহ আলী মালাদার বাড়ির বাসিন্দা মো. মোস্তফা মারা গেলে প্রায় ১৬ মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে আত্মীয়স্বজনের জায়গায় তাকে দাফন করা হয়।
তবে সম্প্রতি ওই কবরস্থানের জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে সোমবার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে অন্য একটি কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
🔹 এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে পারিবারিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে অস্বস্তিকর ও অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করেছেন।
মগধরা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও শিক্ষক ওমর হায়দার বলেন,
“এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আমাদের এলাকাকে কলঙ্কিত করেছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান শিবলু বলেন,
“বিষয়টি মীমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্তে যেতে হয়েছে।”
🔹 পুলিশের বক্তব্য
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান,
“উভয় পক্ষের সম্মতিতেই মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
🔹 সামাজিক আলোচনায় ঘটনা
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই কবর ও মরদেহ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক বিরোধ সময়মতো সমাধান না হলে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

