জাতীয় ঢাকা শিক্ষা ও চাকুরী

মিমোর মৃত্যুর বিচার দাবিতে ঢাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিচার দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

🔴 সংহতি ও অংশগ্রহণ

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেন।

🔴 শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন,
বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত ও মানসিক নিপীড়নের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং মিমোর মৃত্যু সেই পরিস্থিতিরই একটি মর্মান্তিক পরিণতি।

তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি জানান।

🔴 ডাকসুর বক্তব্য

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন,
প্রতিটি বিভাগে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকলেও বাস্তবে এসব সেল কার্যকরভাবে কাজ করে না।

তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই সেলগুলোকে কার্যকর করতে হবে এবং অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, মিমোর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

🔴 বিভাগের অবস্থান

বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বিভাগের একাত্মতা রয়েছে।

তিনি বলেন,
ঘটনার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

🔴 সাত দফা দাবি

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা
  • ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখা
  • অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার
  • নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ
  • মিমোর পরিবারের আইনি সহায়তা
  • সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগে নীতিমালা প্রণয়ন

🔴 কর্মসূচি

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পরে উপাচার্য ও প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *