নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে প্রক্টরের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রক্টর অফিসে গিয়ে তালা লাগিয়ে দেন তারা।
🔹 ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় শেষ হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
তাদের ভাষ্য, প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তথ্য গোপন ও দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
🔹 প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন থেকে মিছিল নিয়ে প্রক্টর রাশিদুল আলমের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
পরে তারা প্রক্টরকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
🔹 রোববার নতুন কর্মসূচি
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হলে আগামীকাল (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করা হবে।
তাদের দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
🔹 যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী একই সঙ্গে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেন।
পরদিন বুধবার আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
🔹 শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—
- দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা
- ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ
- ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার
- নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ
- কুইক রেসপন্স টিম গঠন
- সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

