বিশেষ প্রতিনিধি, মেহেরপুর:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কৃষি ডিপ্লোমা পাসের প্রায় তিন বছর আগেই এক ব্যক্তির সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
🔹 ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত এইচ.এম.এইচ.ভি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মো. আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তি ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে যোগদান করেন।
তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার এমএস জোহা কৃষি কলেজে ৩ বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন এবং ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার সনদ ইস্যু করা হয় ২০০৯ সালের ২৪ মে।
🔹 অভিযোগের বিষয়
এতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রায় তিন বছর আগেই তিনি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
🔹 অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, সে সময় অনেক ক্ষেত্রেই ডিপ্লোমা সম্পন্নের পূর্বে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হতো।
তার ভাষায়, “ম্যানেজিং কমিটি আমাকে ৩ বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার শর্তে নিয়োগ দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সব কাগজপত্র যাচাই করেই এমপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
🔹 প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম বলেন, ২০০৫ সালে একটি পরিপত্র অনুযায়ী কৃষি ডিপ্লোমার আংশিক সেমিস্টার সম্পন্ন করলেই নিয়োগের সুযোগ ছিল।
তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৎকালীন কমিটি, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা অবগত ছিলেন।
🔹 শিক্ষা অফিসের মন্তব্য
গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “সে সময় শর্তসাপেক্ষে নিয়োগের একটি পরিপত্র ছিল। তবে যদি তা পরিপত্রের বাইরে গিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বিধি মোতাবেক হয়নি।”
🔹 প্রশাসনের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, “তদন্তে যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

