শিক্ষা ও চাকুরী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন খুলনা

সই জাল করে বিভাগের ফান্ডের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, খুবি কর্মকর্তা নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

ডিসিপ্লিন প্রধান ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের সই জাল করে বিভাগের ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১১ মে) ইএমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।


🔹 কীভাবে বিষয়টি সামনে আসে

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিয়মিত সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হানের মাধ্যমে সেমিস্টার ও পরীক্ষার ফি জমা দিতেন।

জাওয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,

“আমরা সবসময় তার মাধ্যমেই ফি দিয়েছি। এবার রেজিস্ট্রেশন চেক করতে গিয়ে দেখি টাকা জমা হয়নি এবং কোর্স সম্পন্ন দেখাচ্ছে না।”

আরেক শিক্ষার্থী সাকিব বলেন,

“তিনি এভাবে ফি নিয়ে অনিয়ম করবেন, সেটা কল্পনাও করিনি।”


🔹 বিভাগের প্রধান যা বললেন

ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নূর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,

“সহকারী রেজিস্ট্রার আমার এবং কোর্স কো-অর্ডিনেটরের সই জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি ও পরীক্ষার ফিও রয়েছে।”


🔹 কো-অর্ডিনেটরের বক্তব্য

কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এস এম জাহিদুর রহমান বলেন,

“আমাদের সই জাল করে চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ সরানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”


🔹 অভিযুক্তকে পাওয়া যাচ্ছে না

অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সহকারী রেজিস্ট্রার ইউসূফ রায়হান কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।


🔹 তদন্ত রিপোর্টে কী উঠে এসেছে

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন,

“আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত রিপোর্টে প্রায় ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


🔹 নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউসূফ রায়হান ২০১৭ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান।

তার নিয়োগ নিয়ে সে সময়ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল।

বর্তমানে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *