অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অপরাধ ‍ও দুর্নীতি এক্সক্লুসিভ বাগেরহাট লিড নিউজ

মোল্লারহাট বাগেরহাট এর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবিশ “পরেশ সমাদ্দার”কে ঘিরে নানা অভিযোগ -এলাকাবাসীর।

বাগেরহাট জেলায় মোল্লারহাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ওই অফিসের নকল নবিস পরেশ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে। যাকে এলাকায় অনেকেই “পরেশ দাদা” নামে ডাকে ও চেনে, তাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির দলিলের নকল তুলতে গেলে নির্ধারিত সরকারি ফি, এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে সময় অতিবাহিত ও কাজ আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার ৫ নম্বর গাঁওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একজন আওয়ামী সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। এবং বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে। রেজাউল করিমের বিপক্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাইলে তাহার উপরে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হতো ।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। এমনটাও শোনা যায়। ফকির মোহাম্মদ শুক মিয়া নামের এক ব্যক্তি রেজাউল করিমের বিপক্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন সে কারণে তিনার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে নিরুদ্দেশ রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়,গত ৫ই আগস্টের পর এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং নিম্ন আয়ের জনগণের কাছ থেকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে প্রায় হাজার বিঘার মতো জমি জবরদখল করে নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অবৈধ পন্থায় জমি রেজিস্ট্রেশন এর কার্যক্রম সম্পন্ন করার নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে পরেশ সমাদ্দারের নাম উঠে এসেছে। এবং আওয়ামী সন্ত্রাস রেজাউল করিম প্রত্যয়ন পত্র ও ওয়ারেশ ক্যাম প্রদান করিতেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, মোল্লারহাট উপজেলায় যেসব ভূমিদস্যু ও জবরদখলকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে, তাদের সঙ্গে পরেশ সমাদ্দার মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়ে দিতেন সাব রেজিস্টার দ্বারা। আংশিক কিছু তথ্য উঠে এসেছে। কুচক্র মহল স্বার্থ হাসিল করার জন্য পরে সমাদ্দারকে ব্যবহার করছেন এবং এখনো চলমান রয়েছে। সাব রেজিস্টার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম রিপন এ বিষয়ে অবগত থাকলেও থাকতে পারেন।
পরেশ সমাদ্দার দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে কর্মরত থাকায়। এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং আরো কিছু সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট।
নকল নবিসদের ১৪ সদস্যের একটি কমিটির মধ্যে । পরের সমাদ্দার ও একজন সদস্য। ওই কমিটির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ।মোহাম্মদ আজিম মোল্লা এবং সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন ও করছেন।
কে এই পরেশ সমাদ্দার এবং কাদের ছাত্র ছায়ায়।
এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, পরেশ সমাদ্দারের গ্রামের বাড়ি মোল্লারহাট উপজেলার দিগঙ্গা গ্রামে। তিনি একজন সাধারণ নকল নবিস। তিনি কীভাবে অল্প সময়ে অঢেল সম্পত্তির মালিক হলেন তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নকল নবিসদের কোনো নির্ধারিত বেতন নেই। তারা মূলত সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন। তবে শুধু এই সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করা সম্ভাব নয়। তাহলে কেন এত অভিযোগ তিনার বিরুদ্ধে।ক্ষমতার উৎস কোথায়। এই পরেস সমাদ্দার।
বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারের গাড়ি চালক হিসেবেও চাকরি করতেছেন । সেই সুবাদে সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ভাঙিয়ে অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।
আরও জানা যায়, অনেক সময় শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনেও বিভিন্ন জায়গা জমির অসম্পূর্ণ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কমিশনের মাধ্যমে দলিলিক কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়ে দেন পরেশ সমাদ্দার। যেখানে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন হয় বলে জানা যায়। উক্ত বিষয় পরেশ সমাদ্দারের নিকট গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তিনি নিজেকে একজন সাধারণ কৃষক বলে দাবি করেন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছে।দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক চুরাকার বারী ,হত্যা, রাহাজানি। গুম,খুন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ, জবরদখল ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। স্থানীয়দের বক্তব্য।
১৭ বছর যাবত দুর্নীতি অনিয়ম ঘুম খুন হয়েছে। যদি এখনও অব্যাহত থাকে তাহলে সরকারের ঘোষিত নীতি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে পাশাপাশি। সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেসব ব্যক্তি দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে। ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। প্রয়োজনে তাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ, বাজেয়াপ্ত করে। গরিব অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার দাবিও জানান তিনি আরো বলেন। আমাদের এই গৌরবময় বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন আমাদেরই কৃতি সন্তান। রেল, নৌ, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, তিনি স্বচ্ছ ও কিলিন ইমেজের ব্যক্তি তাই তিনার জন্মস্থানের সুনাম ও ভাব মূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। উপরোক্ত বিষয় আমি তিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিও আশা রাখি তিনি খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। *এটা একটা অনুসন্ধানী রিপোর্ট এবং অনুসন্ধান চলমান।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *