বিশ্ব রাজনীতি যুদ্ধ সংবাদ

ইরানে খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় (দেশটির সবচেয়ে বড় জুমার নামাজ আদায়ের স্থান) তার মরদেহ রাখা হয়েছে। বিদেশি অতিথি ও বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে নিহত হওয়া অন্য ব্যক্তিদের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানকার প্রধান নামাজের কক্ষে মরদেহগুলো রাখা হয়। এরপর শুরু হয় শেষশ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা।

খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা প্রথম বিদেশি অতিথিদের মধ্যে আছেন—ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ইসলামি আলেম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। ইরানে স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি) খামেনি নিহত হন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, খামেনির দাফনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া আরও অনেক দেশ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী অথবা বিশেষ দূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

বাঘাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

বাঘাই আরও বলেন, পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পার্লামেন্টের সদস্যরা শেষবিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানো ইউরোপের দেশগুলোকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সরকারিভাবে শেষশ্রদ্ধা নিবেদনের এই আয়োজনের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কর্মীদের স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত নেতাকে শেষবিদায় জানান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সব শ্রেণি-পেশা ও মতের ইরানিদের শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বীরত্বপূর্ণ ইরান যখন ইসলাম ও বিপ্লবের একনিষ্ঠ সেবককে শেষবিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মত, আদর্শ বা ধর্মনির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত, মর্যাদাপূর্ণ এবং ইতিহাসে স্মরণীয় সংখ্যায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার উচ্চ আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক স্থায়ী চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

ইরানের কর্মকর্তাদের ধারণা, দাফন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েক দিনের এ আনুষ্ঠানিকতায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।

আগামীকাল শনিবার ও রোববার শোক অনুষ্ঠান চলবে। এ সময় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। এরপর সোমবার তেহরানে একটি ধরনের শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর পবিত্র শহর কুমে আরও কিছু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পরে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *