আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দৈনিক প্রায় ৪৫০ টন আটার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০০ টন। এতে করে লাখ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
🔹 সরবরাহ সংকট
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় আটা সরবরাহ অর্ধেকেরও কম। তারা অভিযোগ করেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ সীমিত করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছে।
🔹 ত্রাণ প্রবেশে বাধা
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩৮ শতাংশ। এতে খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
🔹 আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম কমে গেছে
সংকট আরও তীব্র হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায়। ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’ আটা সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যা আগে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টন সরবরাহ করত।
অন্যদিকে ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’ তাদের সরবরাহ ৩০০ টন থেকে কমিয়ে ২০০ টনে নামিয়ে এনেছে।
🔹 বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ
চলমান সংঘাতে গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মধ্যে ১৯ লাখ এখনও বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিনের সংঘাতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
🔹 যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি পুরোপুরি
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী ও আশ্রয় সহায়তা সরবরাহে চুক্তির শর্ত পূরণ হচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
🔹 হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

