অপরাধ ‍ও দুর্নীতি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ লিড নিউজ সারাদেশ

প্রতারক শিশিরের প্রতারণার নতুন প্রলোভনের কৌশলের ফাঁদে প্রলুব্ধ বিনিয়োগকারীরা পুনরায় ধরাশায়ী হতে চলেছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি

৫ আগস্ট,২০২৪ সনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দৃশ্যত প্রতারক শিশির আহমেদ হলিস্টিক গ্রুপ থেকে পলায়ন করলেও তার প্রতারণা ব্যবসা মূলতঃ জানুয়ারী,২০২৪ সন হতেই পতনের দিকে ধাবিত হয়েছে।
৫ আগস্ট, ২০২৪ সন হতে প্রতারক শিশির চম্পট দিয়েছে।পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীরা বিবিধ সময়ে বিবিধ গ্রুপে হলিস্টিক গ্রুপকে সচলে সচেস্ট হয়।কিন্তু আড়ালে থেকে প্রতারক শিশির তার বশংবদ বিভিন্ন লিডারদের দিয়ে গ্রাহকদের উদ্যোগ গুলোকে বানচাল করে দেয়।

#হোটেল এর মালিকানা ফিরে না পাওয়ার কারণঃ-


এক পর্যায়ে সে তার ভাগ্নে সুজন ঢালীর মাধ্যমে তার গোপন অংশীদার নাহিদকে হোটেল পরিচালনায় নিয়ে আসে।তার ব্যবসায়ীক অংশীদার নাহিদকে হোটেলের দায়িত্বে নিয়ে আসা নিশ্চিত হওয়ার পর সে দেশের বাহিরে পালিয়ে যাওয়ার পথে এয়ারপোর্টে ধরা পড়ে ও জেলে যায়।জেল হতে জামিনে মুক্তির পর সে আদালতে গ্রাহকদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করে।কিন্তু অদ্যাবধি গ্রাহকদের বিবিধ উদ্যোগে সে সাড়া দিতে বাধ্য হলেও তার নেয়া সিদ্ধান্তনুযায়ী যখনই সাংবাদিক সম্মেলন ও আইনি নোটিশ এর বিষয়টিতে তার স্বাক্ষর ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে তখনই সে পল্টি দিয়ে গড়িমসি করতে থাকে।মূলতঃ হোটেল ক্যাপিটাল প্যারাডাইস মার্কোপোলো নামে পরিচালনা ও হোটেলটিতে তার অংশীদারত্বের বিষয়টি প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে আইনি নোটিশ ও সাংবাদিক সম্মেলন এর বিষয়টিতে অসহযোগিতা করে।ফলে হোটেলটি গ্রাহকদের পক্ষে আর নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি।

#টঙ্গীর আউচপাড়ার জমিঃ


টঙ্গীতে অবস্হিত আউচপাড়ার জমিটি মূলতঃ কাগজে কলমে হলিস্টিক গ্রুপের নয়। তবে আউচপাড়ার এই জমিটি হলিস্টিক এর গ্রাহকদের অর্থ প্রতারক শিশির ও তার সহযোগীদ্বয় আত্মসাৎ করে জমির মালিক এর সাথে ডেভেলপমেন্ট এর চুক্তি করেছে। এখন তারা এই জমির জটিল সমীকরণ হলিস্টিক গ্রুপ এর গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।জমিটিতে প্রথম পক্ষ জমির মালিক ও দ্বিতীয় পক্ষ প্রতারক শিশির, মিথুন ও বাহার।এখন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কিছু গ্রাহকদের বা ডেভেলপারকে বিনিয়োগ এর জন্যে প্রলুব্ধ করছে।
আইনী জটিলতার ফাঁদে এই জমির ডেভেলপমেন্ট মূলতঃ সময় নস্ট করার সুদীর্ঘ কৌশল ব্যতীত আর কিছুই নয়।

উত্তরখানের জমিঃ

#হলিস্টিক গ্রুপের পক্ষে জমিটি ক্রয় করেছে প্রতারক শিশির আহমেদ।
সাক্ষী হিসেবে রয়েছে হায়দার কবির মিথুন ও হাবিবউল্লাহ বাহার।

#হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড কোম্পানি মূলতঃ বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন কারী সংস্থা জয়েন্ট স্টক কোম্পানীতে অনুমোদিত। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিয়মানুসারে এজিএম এর মাধ্যমে হলিস্টিক গ্রুপ এর বোর্ড অব ডিরেক্টরস এর অনুমোদনে প্রতি ২ বছর অন্তর চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, এম ডি, ডি এম ডি, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর পরিবর্তন বা পুনঃ নির্বাচন করে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির প্রতিনিধির উপস্হিতি নিশ্চিত করে নতুনভাবে অনুমোদন নিতে হয়।নচেৎ বোর্ড অব ডিরেক্টরস তার কার্যকারিতা হারায়।বিগত দীর্ঘ দুই বছরের অধিক জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিয়ম ভঙ্গ করার কারণে ও বোর্ড অব ডিরেক্টরস এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ও পুনঃ নির্বাচন না হওয়ায় এবং নিয়মানুসারে অডিট ফার্মের মাধ্যমে হলিস্টিক গ্রুপের নিয়মিত অডিট সম্পন্ন না করায় এম ডি হিসেবে প্রতারক শিশির আহমেদ ইতিমধ্যেই তার এম ডি পদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এখন জয়েন্ট স্টক কোম্পানীতে হলিস্টিক গ্রুপের নতুন বোর্ড অব ডিরেক্টরস নির্বাচন করে প্রতারক শিশির আহমেদকে পুনরায় এম ডি পদে ফিরে আসতে হলে কিছু জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে।যেমনঃ

প্রথমতঃ হলিস্টিক গ্রুপের নামে

একটি অফিস নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

#দ্বিতীয়তঃ বকেয়া আয়কর রিটার্নসমূহ জমা দিতে হবে।

#তৃতীয়তঃ স্বনামধন্য অডিট ফার্মের মাধ্যমে অডিট সম্পন্ন করতে হবে।

#চতুর্থতঃ জয়েন্ট স্টক কোম্পানির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নতুন বোর্ড অব ডিরেক্টরস এর মাধ্যমে চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান, এম ডি, ডি এম ডি, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর নির্বাচিত করে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

#পঞ্চমতঃ উপরোক্ত সকল নিয়ম মেনে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড এর পক্ষে প্রতারক শিশির আহমেদ জমিটি জমা-খারিজ করে নামজারি করে জমিটি যৌথ মালিকানায় হস্তান্তরিত অথবা বিক্রয় করতে পারবেন।

উপরোক্ত সবগুলো ধাপ অতিক্রম সময় সাপেক্ষ ও অর্থ ব্যয়ের বিষয় সম্পৃক্ত থাকায় প্রতারক শিশির আহমেদ গং প্রতারণার কৌশল নিয়েছে। তারা জমি খারিজ করতে দিয়েছে প্রচার করলেও শিশির আহমেদ এর খারিজ আবেদনটি উপরে বর্ণিত নিয়ম না মানার কারণে যে নাকচ করা হয়েছে সে বিষয়টি সকল গ্রাহকদের নিকট গোপন করে রেখেছে।
মূলতঃ হোটেলেটিতে তার অংশীদারত্ব ও আয়ের বিষয়টি হতে দৃস্টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে আউচপাড়া ও উত্তরখানের জমির জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদী সময় নস্টের বিষয়টি গোপন রেখেছে।
প্রতারক শিশির আহমেদ গং এর আসল উদ্দেশ্য হোটেল বা জমির কোন সমস্যার সমাধান না করে গ্রাহকদের অর্থে গড়া সম্পদসমূহ আত্মসাৎ করা।
ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হাবিব উল্লাহ বাহারের দেয়া তথ্যমতে প্রতারক শিশির আহমেদ অর্থ বিনিয়োগের এম এল এল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপরের দশটি আইডির মালিকানা নিয়ে ও সফটওয়্যার এর একক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট হতে কমিশনের নামে ৩০/৩৫ কোটি হাতিয়ে নিয়েছে।
আত্মসাৎকৃত এই অর্থ ব্যাংকে রেখে সে যে ৩০ লাখ টাকা আয় করছে ও হোটেল হতে যে আয় করছে তার অংশ থেকে প্রতি মাসে ১৫/২০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও অনেক অসহায় পরিবার তাদের বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পেতে পারে।শুধুমাত্র প্রতারক শিশির আহমেদ এর সদিচ্ছাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *