স্টাফ রিপোর্টার
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা নূরিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক (বাংলা) মোঃ মনিরুজ্জামানকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় আপত্তিকর অবস্থায় পেয়েছে স্থানীয়রা।বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষক মনিরুজ্জামানের বাড়ি বরিশাল উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামে।তিনি ২ সন্তানের জনক।স্ত্রী – সন্তান থাকা অবস্থায় এ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মোঃ মনিরুজ্জামান ২০২৩ সালে এনটিআরসিএ’র সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে মাদ্রাসাটিতে যোগদান করেন।যোগদান করার পর মাদ্রাসার পাশের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে ছাত্রীর মায়ের সাথে পরিচয় হয় তার।ছাত্রীর মা প্রবাসীর স্ত্রী হওয়ায় সহজেই তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই শিক্ষক।এরপর তাদের সম্পর্কের জের ধরে একই বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ফ্লাট ভাড়া নেন তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখান থেকে বাসা পরিবর্তন করে কৌশলে যোগাযোগ রাখার একপর্যায়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা।
ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, তাকে খাটের নিচ থেকে বের করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে চর থাপ্পর মারেন।শিক্ষক মনিরুজ্জামান তার প্রথম স্ত্রীর কাছে টাকা পয়সা প্রয়োজন বলে জানান।এ সময় তার প্রথম স্ত্রী তাকে বকাবকি করেন।কিন্তু ভিডিওতো কাউকেই বিবাহ হয়েছে বলে কোন কথা বলতে শোনা যায় নি।
এ ব্যাপারে কাজী মোঃ ইয়াকুব আলী জানান,ওই শিক্ষকের সাথে প্রবাসীর স্ত্রীর বিবাহ হয়েছে। বিবাহের ২০/২৫ দিন পূর্বে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছে। থানায় গিয়ে বিবাহের ডকুমেন্টস দেখিয়ে আসছি।
শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান,গত ৩০ জুন আমি ২য় বিবাহ করেছি।যারা ভিডিও করেছে তারা আমার কাছে টাকা চেয়েছে।টাকা না পেয়ে ভিডিও ছেড়ে দিয়েছে।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর জানান, গত ১৭ জুলাই রুবেল নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে এবং ভিডিও ধারন করে।কেউ কেউ ওই শিক্ষকের কাছে ১ লাখ টাকাও দাবি করে।তাকে সাময়িক বরখাস্ত সহ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা পর্যন্ত সে বিবাহ করছে কিনা তা আমাদের জানা ছিল না।এছাড়াও এ ঘটনার ২/৩ মাস পূর্বে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছিল।প্রবাসী রুবেলের বোন শাহিনুর বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান,মনিরুজ্জামান নামে ওই শিক্ষক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিবাহ করার কাগজপত্র থানায় দেখাইতে পারছে কিনা তা আমার জানা নেই।

