নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘দুর্নীতির টুটি চেপে ধরা’ হলেও, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে এক শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকার। গত ২৪ মার্চ সংস্থাটির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আজ রোববারই এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল হতে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
অন্ধকারে ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী: আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই সার-সংক্ষেপ তৈরি ও অনুমোদন করিয়ে নেয়। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিয়োগের নেপথ্যে ‘সাত্তার-ফরিদী’ সিন্ডিকেট: অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং পিএস মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এই নিয়োগের মূল হোতা। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে আব্দুর রশীদ মিয়া এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুর রশীদ মিয়ার দুর্নীতির খতিয়ান: দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, আব্দুর রশীদ মিয়ার অন্তত ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বরুয়ায় ৭০ কোটি টাকার জমি, মোহাম্মদপুরে ৬ তলা বাড়ি, ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্ল্যাট এবং সিরাজগঞ্জে রেস্টুরেন্ট ও আলিশান বাড়ি অন্যতম। ইতিপূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে চলতি দায়িত্ব বাগানোর অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি।
