Uncategorized

পশ্চিম নন্দীপাড়ায় টিসিবি ডিলার মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম অভিযোগ

এমডি রবিউল ইসলাম। ক্রাইম রিপোর্টার ———————————————-
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়া ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবি ডিলার ‘মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্স’ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার কর্তৃক নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সঠিকভাবে বিতরণ না করে সেগুলো কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে একটি অটোরিকশার মাধ্যমে অন্য এক ডিলারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টিসিবি পণ্য বস্তা ও কার্টনে করে এনে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তীতে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্স’,এর দোকানে প্রদর্শিত ব্যানারে কোনো কন্টাক্ট নম্বর বা মোবাইল নম্বর উল্লেখ নেই। এমনকি ডিলারের লাইসেন্স নম্বরও দৃশ্যমান নয়, যা একটি অনুমোদিত টিসিবি ডিলারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো,প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সাথে জড়িত মানিক মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কর্মচারী হিসেবে দাবি করলেও, গণমাধ্যমের কাছে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ও মোবাইল কথোপকথনের রেকর্ডে তার মালিকানা সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন সময় তিনি গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রদান করেছেন এবং সঠিক তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এতে করে পুরো বিষয়টি আরও রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“আমরা অনেক কিছুই দেখি, কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারি না। যদি এসব অনিয়ম গণমাধ্যমে আসে, তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে এই আশাতেই আছি।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। সত্য কথা বললে সাধারণ মানুষের উপর চাপ ও হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
বর্তমানে এলাকাবাসীর মধ্যে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে‘মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্স’ নামে আদৌ কোনো বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কিনা এবং থাকলেও তা কতটা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য,
“গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ করা মানবিকতার চরম অবমাননা। যারা এসব করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইন,শৃঙ্খলা বাহিনী এবং টিসিবি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি এলাকাবাসীর।——————-
অনুসন্ধান চলমান
এই ঘটনার আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও নতুন দিক উন্মোচন করা হবে পরবর্তী প্রতিবেদনে।
চোখ রাখুন দ্বিতীয় পর্বে আসছে আরও বিস্ফোরক অনুসন্ধান, যা দেখে চমকে উঠতে পারেন আপনি।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *