শিক্ষা ও চাকুরী অপরাধ ‍ও দুর্নীতি চট্টগ্রাম

পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরপরই দুই পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট কলেজ কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


🔹 আহত দুই পরীক্ষার্থী

আহতরা হলেন বারইয়ারহাট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান ও মুহাম্মদ মুনায়েম।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আহত জিহানের শরীরে ১৯টি সেলাই এবং মুনায়েমের শরীরে ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।


🔹 পরীক্ষা শেষে হামলার অভিযোগ

আহত শিক্ষার্থী জিহানের বাবা মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করে বলেন,

“আমার ছেলে ও তার বন্ধু পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরছিল। বিএম হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। ক্ষুর দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র নিয়ে এসেছিল এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।


🔹 আগে থেকেই বিরোধ ছিল

আহত শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান জানান,

“রোববার বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার পর হঠাৎ আমার বন্ধু মুনায়েমকে মারধর শুরু করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও কোপায়। গত এক সপ্তাহ ধরে কয়েকজন পরীক্ষার্থী ঝামেলা করছিল।”

তার দাবি, করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এর সঙ্গে জড়িত।


🔹 শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

বারইয়ারহাট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী সচিব নাছিমা আক্তার বলেন,

“পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি কেন্দ্রে ছিলাম। কেন্দ্রের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাইরে কোথাও কিছু হয়ে থাকতে পারে।”

অন্যদিকে করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,

“বিষয়টি শুনেছি। জড়িতদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।”


🔹 প্রশাসনের অবস্থান

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হাসেন বলেন,

“ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

তবে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


🔹 এলাকায় উদ্বেগ

এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *