লোকমান আহমেদ গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮ নম্বর তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা বলে ৭–৮টি সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশে গাছগুলো কেটে ফেলার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কাটা গাছের গুঁড়ি কাদা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকটি গাছের গুঁড়ি কাদা দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না এবং বিদ্যালয়ের কোনো ক্ষতির কারণও ছিল না। এরপরও যথাযথ সরকারি অনুমোদন ও নিয়মকানুন অনুসরণ না করেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বীরকুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফেজ বসির উজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের মাঠে গাছগুলো ছিল। তবে রোববার বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখেন গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময়েই গাছগুলো কাটা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি প্রতিবছরই প্রায় ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে বর্গা দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গাছ কাটার বিষয়ে তাদের কোনো পূর্ব অবগতি বা অনুমোদন ছিল না।
এদিকে সারি রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তে একজন প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে পাঠান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটিও প্রতিবছর বর্গা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কর্তন এবং বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বর্গা দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

