আন্তর্জাতিক এক্সক্লুসিভ ফিচার লিড নিউজ

বিশ্বমঞ্চে একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প; ফেসবুক-ট্রুথ সোশ্যালে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া পোস্টগুলোতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফ্রন্টে ট্রাম্প ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন এবং নিজের সংকীর্ণ পরিকল্পনার পক্ষে মিত্রদের সমর্থন না পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিরক্তি উগরে দিচ্ছেন।

মিত্রদের প্রতি বিতর্কিত পরামর্শ:

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্রিটেনসহ মিত্রদেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি থেকে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার যে পরামর্শ ট্রাম্প দিয়েছেন, তা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করছেন, মিত্রদেশগুলোকেই এখন নিজেদের স্বার্থে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো সহায়তায় এগিয়ে আসবে না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “তোমাদের নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর তোমাদের পাশে থাকবে না।”

হরমুজ প্রণালির বাস্তবতা:

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান এই পথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী মিত্রদেশগুলো যদি ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জ্বালানি স্থাপনা দখল করতে যায়, তবে তা একটি ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের উস্কানি দেবে। অথচ এখন পর্যন্ত খোদ মার্কিন যুদ্ধজাহাজও ইরানের এই নিয়ন্ত্রণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার ঝুঁকি নেয়নি।

কূটনৈতিক একাকীত্ব:

ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা চলছে, কিন্তু এর কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। অন্যদিকে, ফ্রান্সকে ‘অত্যন্ত অসহযোগিতামূলক’ বলে আক্রমণ করে তিনি নিজের একাকীত্বই প্রকাশ করেছেন। আলোচনার ফলাফল কী হবে তা না জেনে কোনো মিত্র দেশই এই মুহূর্তে যুদ্ধের ময়দানে নামতে আগ্রহী নয়। ফলে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *