পিতার হাতে ছেলে খুন নাকি রহস্যের আড়ালে অন্য কোনো সত্য? খিলগাঁও পশ্চিম নন্দীপাড়ায় কিশোর সজীবের মৃত্যু ঘিরে তুমুল আলোচনা,ও কিশোর কিশোরীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ———————————-
(অনুসন্ধানী রিপোর্ট)-এমডি রবিউল ইসলাম, ক্রাইম রিপোর্টার——————-
ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়া, সিটি কর্পোরেশন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সজীব (আনুমানিক ১৬/১৭) নামের এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য, নানা প্রশ্ন ও আলোচনা। গত ২৭/০৩/২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এখনো রহস্য কাটেনি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সজীব মাদক সেবন করতো এবং ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার পর ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ বিষয়ে বক্তব্য দেন সজীবের ফুফু জেসমিন আক্তার, স্বামী মোঃ আলমাস।
তিনি দাবি করেন, “সজীব দরজা আটকে রেখেছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে প্রথমে জানালা ভাঙার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে দরজা ভেঙে সজীবকে উদ্ধার করা হয়। তখনও আমাদের মনে হয়েছিল তার নিশ্বাস রয়েছে। দ্রুত মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এদিকে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট সজীবের মা দাবি করেন, হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হলেও সেটি হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “তখন আমরা শোকাহত অবস্থায় ছিলাম। ব্রেইন ঠিকমতো কাজ করছিল না, তাই কাগজপত্র হারিয়ে গেছে।”
অপরদিকে সজীবের ফুফু জেসমিন আক্তার দাবি করেন, ডেথ সার্টিফিকেট, পুলিশের তদন্ত রিপোর্টসহ সকল আনুষঙ্গিক কাগজপত্র তিনার মেয়ের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং কয়েকদিন সময় নিয়ে সকল আনুষঙ্গিক কাগজপত্র দিব আপনাদের.
তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মাঝে তৈরি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন ও সন্দেহ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী ও সজীবের বন্ধু-বান্ধব দাবি করেন, মৃত্যুর আগের সময় থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত তারা ঘটনাটির বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এক ব্যক্তি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, “আমার ধারণা, মোটরসাইকেল বিক্রয়/ বন্ধক/ রাখার বিষয় নিয়ে সজীবের পিতা মোহাম্মদ আখতার হোসেন ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ নিয়ে সজীবকে মারধরের ঘটনাও ঘটে থাকতে পারে। আমি তার গলার এক পাশে ক্ষতের মতো দাগ দেখেছি। যদি ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হতো, তাহলে পুরো গলায় দাগ থাকার কথা।”
আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, “ঘটনার পোস্টমর্টেম করা হলে হয়তো প্রকৃত সত্য সামনে আসতো। কেন ময়নাতদন্ত করা হলো না, সেটি এখন অনেকের কাছেই বড় প্রশ্ন।”
প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি ছেলেটাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। ফাঁস দিলে ভিন্ন ধরনের চিহ্ন থাকার কথা।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেছেন স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি। তিনি বলেন,
“সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা বাবা-মায়ের কোল। মানুষ ভুল করতেই পারে, সন্তানরাও অনেক সময় না বুঝে ভুল করে। কিন্তু পরিবার থেকেই যদি কঠোর আচরণের শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন,
“মহান আল্লাহ তাআলা নিজেও ক্ষমার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই সন্তানদের প্রতি মানবিক আচরণ ও দায়িত্বশীল মনোভাব সমাজে আরও বাড়ানো জরুরি।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই সজীবের মা ও দাদি অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অনেকের মতে, তারা কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন বলেই মনে হয়েছে। তবে কেন তাদের পরিবর্তে সব বক্তব্য সজীবের ফুফু দিচ্ছিলেন, সেটিও অনেকের মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এছাড়াও সজীবের ফুফু জেসমিন আক্তার দাবি করেন, সজীবের পিতা মানসিকভাবে অসুস্থ বা “পাগল” এবং সজীবের মা ও দাদি গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তারা কথা বলার অবস্থায় নেই। কিন্তু এলাকাবাসীর একাংশের মতে, বাস্তবে তাদের দেখে তেমন গুরুতর অসুস্থ মনে হয়নি। ফলে এ বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এ বিষয়ে সজীবের পিতা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সজীবের লাশ দাফন করা হয়েছে নন্দীপাড়া ক্যাম্প কবরস্থানে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি মনে করছেন, প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয়দের অনেকেই জোর দাবি জানিয়েছেন, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও পি বি আই এর স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।
জানা গেছে, সজীবের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর আড়াইহাজারে। বর্তমানে তারা ঢাকা খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বা মেডিকেল ডকুমেন্টস গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছেনি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে রহস্য ও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।——————-
সত্য তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
ঘটনার আড়ালে অন্য কোনো সত্য লুকিয়ে আছে কিনা, নাকি এটি শুধুই আত্মহত্যার ঘটনা— সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষায় এলাকাবাসী।
চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

