গণপূর্তের প্রকৌশলী ফয়জুলের বিরুদ্ধে লুটপাটের মহোৎসব; কাজ না হতেই বিল পরিশোধ!

গণপূর্তের প্রকৌশলী ফয়জুলের বিরুদ্ধে লুটপাটের মহোৎসব; কাজ না হতেই বিল পরিশোধ!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অপরাধ ‍ও দুর্নীতি এক্সক্লুসিভ জাতীয় ঢাকা লিড নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে সুপরিকল্পিত অর্থ লুটের এক নীরব মহোৎসব চালানোর অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এইচ.এম. ফয়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুয়া বিল তৈরি, অসমাপ্ত কাজে পূর্ণাঙ্গ বিল উত্তোলন, দরপত্র কারসাজি এবং বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ।

কাজের আগেই বিল ও কমিশন বাণিজ্য:

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি ভবনের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে পূর্ণাঙ্গ বিল ছাড় করেছেন ফয়জুল ইসলাম। এমনকি অর্থবছরের শেষে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে বড় অঙ্কের বিল অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বকেয়া বিল ছাড় করতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুস বা কমিশন নেওয়া দপ্তরে এক ধরনের ‘অঘোষিত নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি:

নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানের কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে পছন্দের ঠিকাদারদের আগে থেকেই কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হতো। পরে ওটিএম (OTM) পদ্ধতির মাধ্যমে লোক দেখানো দরপত্র আহ্বান করে সেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারদেরই কাজ পাইয়ে দিয়ে প্রশাসনিক বৈধতা দেওয়া হতো। বিশেষ করে জুলাই মাসের রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সংস্কার এবং স্বাস্থ্যখাতের প্রকল্পে এই কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিপুল অবৈধ সম্পদ:

অভিযোগ অনুযায়ী, ফয়জুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর নামে রাজধানীর গুলশান, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি ও প্লট রয়েছে। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার এবং স্ত্রীর নামে উচ্চমূল্যের এফডিআর থাকার গুঞ্জনও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফয়জুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ খুব কম। শুধুমাত্র বিভাগীয় পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এই দুর্নীতির সংস্কৃতি ভাঙতে হবে।”

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *