সিলেট জেলা প্রতিনিধি
মোঃ হাসান আহমেদ ইয়ামিন
প্রবাসীদের এনআইডি সেবায় ভোগান্তি, তদন্তে নির্বাচন কমিশন
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ইস্যু ও সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রবাসী সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং নানা অজুহাতে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ আব্দুল হক অভিযোগ করেছেন, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে টাকা ছাড়া অনেক ফাইল নড়ে না। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম চৌধুরীসহ অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ আনোয়ার হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোঃ আব্দুল হাসিব, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর অনল রজক এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগকারী মোঃ আব্দুল হক জানান, এ বিষয়ে তিনি গত ২৪ জুলাই নির্বাচন কমিশন, আগারগাঁও, ঢাকায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তার অভিযোগ, নতুন ভোটার হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। কেউ টাকা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে আবেদনপত্রে ভুল বা কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে তাকে বারবার অফিসে আসতে বলা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পরের তারিখ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া প্রবাসীদের নতুন ভোটার হওয়ার প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন দেওয়ার নামে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের সচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে সাক্ষ্যগ্রহণ ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে এনআইডি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

