কুমিল্লা মেঘনা প্রতিনিধি: এমরান হোসেন রিটন
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন রমিজ উদ্দিন। এ ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরতে সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী দাবি করেন, গত ৮ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন সেখানে প্রবেশ করেন।
রমিজ উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে আলী হোসেন ইউএনওর কাছে জানতে চান। জবাবে সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না বলে ইউএনও তাঁকে জানান। এ নিয়ে আলী হোসেন উত্তেজিত হয়ে কথা বললে তিনি তাঁকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সামান্য কথোপকথন হয়। তবে শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
ঘটনার পর আলী হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার অভিযোগ তোলা হয়।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে রমিজ উদ্দিন বলেন, আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের শারীরিক সংঘর্ষ হয়নি। তাঁর দাবি, ওই সময় উপস্থিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আলী হোসেনকে শান্ত করেন এবং তাঁকে সঙ্গে করে কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। মেঘনা-হোমনা নির্বাচনী আসনকেন্দ্রিক একটি মহল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কারণ দর্শানোর নোটিশ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল
এদিকে, গত ১১ অক্টোবর কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেম চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আলী হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁর কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।
এসব কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রমিজ উদ্দিন দাবি করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাই না করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ঘটনার সময় উপস্থিত ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি যাচাই করলেই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী, সাবেক সদস্যসচিব এম এম মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান ভূঁইয়া, আবুল কাশেম চেয়ারম্যান, অহিদুজ্জামান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুর উদ্দিন মিন্টু এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোলাইমান হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসনসংক্রান্ত পূর্বের একটি বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃশহীদুল ইসলাম বলেন, বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

