নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা:
নেত্রকোনার মদনে আলোচিত এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাবের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাছহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মহিলা মাদরাসার পরিচালক।
🔹 পুলিশের বক্তব্য
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান,
“বুধবার ভোরে র্যাব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
🔹 কী অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র, এজাহার ও পুলিশ জানায়, প্রায় চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত।
শিশুটির বাবা আলাদা থাকায় তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহকর্মীর কাজ করেন বলে জানা গেছে।
🔹 মায়ের অভিযোগ
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর তার মেয়েকে মসজিদ পরিষ্কার করার কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়।
তার দাবি, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়।
কিছুদিন আগে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
🔹 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
মামলার পর শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
🔹 অভিযুক্তের দাবি
মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন।
তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
🔹 তদন্ত চলমান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

