অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অপরাধ ‍ও দুর্নীতি এক্সক্লুসিভ জাতীয় মৌলভীবাজার সারাদেশ সিলেট সিলেট বিভাগ

এনআইডি সেবায় অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনজুরুল আলম

মো. হাসান আহমেদ ইয়ামিন
জেলা প্রতিনিধি |

সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক সেবাগ্রহীতা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারী মোছাঃ ফাতেমা বেগম পপি জানান, এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিয়ে তিনি জেলা নির্বাচন অফিসে গেলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মনজুরুল আলম তার আবেদন পর্যালোচনা করে অনলাইনে অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দুই দিন পর সব প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে জমা দেন।

তিনি বলেন, পরে আবার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে জানানো হয় যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী বিষয়ে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানো হবে। কিন্তু অফিস থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি এসএমএস পান, যাতে উল্লেখ ছিল তার আবেদন তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি তাকে বিস্মিত করে। তার দাবি, অফিসের এক কম্পিউটার অপারেটর সুমন তাকে বলেন, “এসব কাজ স্যার টাকা ছাড়া করেন না।” তবে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মোছাঃ ফাতেমা বেগম পপির অভিযোগ, ঘুষ না দেওয়ায় তার আবেদন সরাসরি নিষ্পত্তি না করে তদন্তে পাঠানো হয়েছে, যার ফলে তাকে অতিরিক্ত ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এদিকে, একই সময়ে উপস্থিত কয়েকজন সেবাগ্রহীতাও অভিযোগ করেন, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক কাগজপত্র চাওয়া, আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মনজুরুল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়া কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অতীতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *